বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে এই নিম্নচাপের ঘোষণা দেয় আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবেই মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দেশের বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়েছে। এর প্রভাবে রাজধানীতেও মঙ্গলবার সকালে বৃষ্টি হয়েছে বলে অধিদপ্তরের সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, আজ থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে। নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপ আকারে ভারতের অন্ধ্র ও ওডিশা উপকূলের দিকে ব্যাপক বৃষ্টি ঘটাতে পারে। এ নিম্নচাপটির ঘূর্ণিঝড় হওয়ার আশঙ্কা আপাতত দেখছেন না আবহাওয়াবিদেরা।
গতকাল রাতে দেওয়া আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় থাকা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি পশ্চিম ও উত্তর–পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও শক্তিশালী হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
নিম্নচাপটি গতকাল রাত ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম ও উত্তর–পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর আজ বলেন, নিম্নচাপের প্রভাব ইতিমধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষ করে খুলনা ও বরিশালে। আজ রাজধানীর সকালের বৃষ্টিও এর কারণেই হয়েছে।
আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে রাজধানীতে এক মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে।
তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন, আজ রাজধানীতে আরও বৃষ্টি হতে পারে। আজ থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে।
নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া আকারে এই গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে বলে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। নিম্নচাপের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।
এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

